📘 বই: Getting Things Done
✍️ লেখক: David Allen
১৯৭১ সালে ডেভিড অ্যালেন ছিলেন এক মানসিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে। হেরোইন আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, জীবন ছিন্নভিন্ন। একসময় বার্কলিতে আমেরিকান ইতিহাসে পিএইচডি শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি। কোনো বড় কর্পোরেট পরিকল্পনা ছিল না, ছিল না “প্রোডাক্টিভিটি গুরু” হওয়ার স্বপ্নও। তিনি শুধু নিজের মাথার ভেতরের অগোছালো শব্দগুলো থামাতে চেয়েছিলেন।
সেই মানুষটিই পরে লিখলেন Getting Things Done — আধুনিক সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রোডাক্টিভিটি বইগুলোর একটি।
এটি সাধারণ টাইম ম্যানেজমেন্ট বই নয়। ক্যালেন্ডার গোছানো বা “আরও ব্যস্ত হও” ধরনের পরামর্শও নয়। বরং এটি এমন একটি সিস্টেম, যা শেখায় কীভাবে মাথার ভেতরের অদৃশ্য চাপ কমিয়ে পরিষ্কারভাবে বাঁচা যায়।
ডেভিড অ্যালেন বুঝেছিলেন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—
মানুষ কাজের চাপে সবচেয়ে বেশি ক্লান্ত হয় না।
বরং ক্লান্ত হয় নিজের সাথে করা প্রতিশ্রুতি ভাঙতে ভাঙতে।
যদি আপনি তিন সপ্তাহ ধরে ভাঙা দরজাটি ঠিক করার কথা ভাবেন কিন্তু কিছু না করেন, আপনার মস্তিষ্ক সেই অসমাপ্ত কাজটিকে পেছনে চালু রেখেই দেয়। আর সেই “ওপেন ট্যাব” ধীরে ধীরে আপনার শক্তি খেয়ে ফেলে।
এই বইয়ের মূল দর্শন হলো —
মাথার ভেতরের সেই ওপেন ট্যাবগুলো বন্ধ করা।
বইটি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পুরো সিস্টেমটি ব্যাখ্যা করেছে—
1️⃣ সবকিছু ধরে ফেলুন (Capture Everything)
মাথায় যা আছে সব লিখে ফেলুন। শুধু অফিসের কাজ নয় — লিক হওয়া কল, জন্মদিনের উপহার, হঠাৎ আসা ব্যবসার আইডিয়া — সবকিছু।
2️⃣ প্রতিটি কাজ পরিষ্কার করুন (Clarify)
কাজটি কী? এখনই করা যায়? দুই মিনিটের কম লাগবে? তাহলে করে ফেলুন। না হলে পরবর্তী নির্দিষ্ট পদক্ষেপ ঠিক করুন।
3️⃣ কাজগুলো প্রেক্ষিত অনুযায়ী সাজান (Organize by Context)
সব কাজ সব জায়গায় করা যায় না। “কম্পিউটার”, “ফোন কল”, “বাইরের কাজ” — এভাবে ভাগ করুন।
4️⃣ নিয়মিত রিভিউ করুন (Reflect Weekly)
তালিকা পরিষ্কার করুন। অগ্রাধিকার বদলান। নিজের প্রতিশ্রুতিগুলো নতুন করে দেখুন।
5️⃣ বিশ্বাস নিয়ে কাজ শুরু করুন (Engage with Trust)
সিস্টেম তৈরি হয়ে গেলে আতঙ্ক থেকে নয়, পরিষ্কার সিদ্ধান্ত থেকে কাজ করুন।
বইয়ের একটি ঘটনা গভীরভাবে নাড়া দেয়।
এক নারী একসাথে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দায়িত্ব, চাকরি ও সন্তান সামলাতে গিয়ে ভেঙে পড়েছিলেন। ডেভিড অ্যালেন তাকে শুধু একটি প্রশ্ন করেছিলেন—
“পরবর্তী কাজটি কী?”
নারীটি কেঁদে ফেলেছিলেন। কারণ কেউ কখনো তাকে এত সরলভাবে সমস্যাকে ভাঙতে শেখায়নি।
Getting Things Done মূলত সেই কাজটাই করে।
জীবনের বিশাল বিশৃঙ্খলাকে ছোট ছোট নির্দিষ্ট পদক্ষেপে ভেঙে দেয়।
ডেভিড অ্যালেন বলেন—
“আপনার মস্তিষ্ক আইডিয়া রাখার জায়গা নয়। আইডিয়া তৈরির জায়গা।”
এই বই পড়ার পর অনেকেই বুঝতে পারেন, তারা আসলে বছরের পর বছর মাথার ভেতরে অদৃশ্য চাপ বয়ে বেড়াচ্ছিলেন।
যদি আপনি রাত ৩টায় ঘুম ভেঙে মনে করেন যে প্রিন্টারের কালি অর্ডার দিতে ভুলে গেছেন…
যদি সারাদিন ব্যস্ত থেকেও দিনের শেষে মনে হয় কিছুই শেষ হয়নি…
যদি আপনি সত্যিকারের একটি কার্যকর সংগঠিত জীবনের সিস্টেম খুঁজে থাকেন—
এই বই পড়ার পর অনেকেই বুঝতে পারেন, তারা আসলে বছরের পর বছর মাথার ভেতরে অদৃশ্য চাপ বয়ে বেড়াচ্ছিলেন।
যদি আপনি রাত ৩টায় ঘুম ভেঙে মনে করেন যে প্রিন্টারের কালি অর্ডার দিতে ভুলে গেছেন…
যদি সারাদিন ব্যস্ত থেকেও দিনের শেষে মনে হয় কিছুই শেষ হয়নি…
যদি আপনি সত্যিকারের একটি কার্যকর সংগঠিত জীবনের সিস্টেম খুঁজে থাকেন—
তাহলে Getting Things Done হতে পারে আপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বই।
একসময় মানসিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে বসে ছবি আঁকা সেই মানুষটিই লিখেছিলেন ২১শ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রোডাক্টিভিটি ম্যানুয়ালগুলোর একটি।
এটি সত্যিই ছোট কোনো বিষয় নয়।





